dogs detect cancer
ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য রক্ত পরীক্ষা, স্ক্যান, বায়োপসি-সহ নানা চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু রোগটি শরীরে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ার আগেই যদি তার কোনও রাসায়নিক ‘গন্ধ’ শনাক্ত করা যায়? সেই সম্ভাবনাই এখন নতুন করে সামনে আনছে প্রশিক্ষিত কুকুর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সমন্বয়ে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক পদ্ধতি।
ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি স্টার্টআপ Dognosis কুকুরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘ্রাণশক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের নিঃশ্বাসে ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক পরিবর্তন শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। গবেষণায় প্রশিক্ষিত কুকুরদের সঙ্গে সেন্সর ও AI প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে শুধু কুকুরের প্রতিক্রিয়া নয়, তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, নড়াচড়া এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপের মতো তথ্যও বিশ্লেষণ করা যায়।
ক্যানসার কোষের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের volatile organic compounds বা VOCs তৈরি হতে পারে। এগুলির কিছু নিঃশ্বাস, প্রস্রাব বা ঘামের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে। গবেষকদের ধারণা, প্রশিক্ষিত কুকুর অত্যন্ত কম ঘনত্বের এই রাসায়নিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।
Dognosis-এর পরীক্ষায় রোগীকে প্রায় ১০ মিনিট একটি তুলোর মাস্কে নিঃশ্বাস ফেলতে হয়। এরপর নমুনাটি সিল করে গবেষণাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশিক্ষিত কুকুর সেই নমুনা শুঁকে দেখে। কুকুরের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে AI সেটিকে বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য রোগের সংকেত খোঁজে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কর্নাটকের ছয়টি হাসপাতালে ১,৫০০-র বেশি মানুষের নমুনা নিয়ে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে Dognosis জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, সাত ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতি ৯০ শতাংশের বেশি accuracy দেখিয়েছে। এই ফলাফলকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকতে বলছেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ৯০ শতাংশের ফলাফল সংস্থার রিপোর্ট করা ফলাফল। এটি এখনও এমন প্রমাণ নয় যে কুকুরের ঘ্রাণভিত্তিক পরীক্ষা সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ক্যানসার diagnostic test হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বৃহত্তর এবং আরও কঠোর clinical study-র প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
কুকুরের ঘ্রাণ দিয়ে রোগ শনাক্ত করার ধারণা নতুন নয়। বহু বছর ধরেই গবেষণায় দেখা হয়েছে যে প্রশিক্ষিত কুকুর প্রস্রাব, নিঃশ্বাস বা অন্যান্য biological sample থেকে ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত গন্ধের পার্থক্য শনাক্ত করতে পারে। একটি systematic review-তেও বিভিন্ন ক্যানসারের ক্ষেত্রে canine scent detection-এর সম্ভাবনা উঠে এসেছে, যদিও গবেষণাগুলির পদ্ধতি ও ফলাফলে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
এমনকি একটি double-blind গবেষণায় প্রশিক্ষিত কুকুর lung cancer রোগীদের breath ও urine sample শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ফল দেখিয়েছিল। তবে গবেষকরা তখনও আরও target compounds শনাক্ত করা এবং পদ্ধতিটিকে বাস্তব চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে অতিরিক্ত validation-এর প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন।
এই মুহূর্তে উত্তর—সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এখনও নিশ্চিত নয়। প্রশিক্ষিত কুকুর ভবিষ্যতে হয়তো প্রাথমিক screening-এর একটি সস্তা ও non-invasive ধাপ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এমন দেশে, যেখানে বহু রোগী ক্যানসারের advanced stage-এ পৌঁছনোর পর diagnosis পান, সেখানে এই ধরনের সহজ screening technology গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
Dognosis ২০২৭ সালে এই প্রযুক্তির commercial launch-এর লক্ষ্যে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে তার আগে বৃহত্তর clinical trials, স্বাধীন গবেষণা এবং নির্ভুলতা ও false-positive/false-negative-এর হার যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, আপাতত কুকুর ক্যানসার ‘নির্ণয়’ করছে—এমন দাবি করার চেয়ে বলা যায়, তাদের অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি ক্যানসারের প্রাথমিক screening-এর ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির একটি সম্ভাবনাময় অংশ হয়ে উঠতে পারে।