Trump backs India
পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের মধ্যেই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা IMEC-কে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব থাকা পথ থেকে সরানো প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল এবং আরব দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং তেল পরিবহণের নিরাপত্তার বিষয়টিও।
ট্রাম্প বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখিয়েছে। তাঁর মতে, তেল পরিবহণের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা জরুরি।
এই প্রসঙ্গেই IMEC-এর কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাইপলাইন-সহ অন্য পরিকাঠামোর মাধ্যমেও তেল পরিবহণের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। এই জলপথ বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
IMEC একটি বহুপাক্ষিক যোগাযোগ ও পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত G20 সম্মেলনের সময় এই প্রকল্প সামনে আসে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর একটি পূর্বাঞ্চলীয় করিডর ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে। এরপর একটি উত্তর করিডর উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে।
এই ব্যবস্থায় সমুদ্রপথের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ এবং শিপ-টু-রেল ট্রানজিট ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের পরিকাঠামোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
IMEC বাস্তবায়িত হলে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নতুন একটি মাল্টিমোডাল রুট তৈরি হতে পারে। এতে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য বিকল্প সরবরাহপথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রকল্পটি এখনও সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। একাধিক দেশকে একসঙ্গে পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও প্রকল্পের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ইজরায়েল-সহ সংবেদনশীল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত রুট যাওয়ায় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিক গতি বাড়ালেও IMEC-এর বাস্তবায়নের জন্য এখনও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।