• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Iran seven conditions Trump

ইরানের ৭ শর্ত ট্রাম্পকে, আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আমেরিকা? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে সাতটি শর্ত জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত এবং বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আলোচনায় বসার প্রস্তুতির বার্তা তেহরানে পৌঁছেছে বলে রিপোর্ট।

ইরানের ৭ শর্ত ট্রাম্পকে, আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আমেরিকা? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ

Iran seven conditions Trump

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 21, 2026 1:04 pm
  • Update:September 21, 2026 1:04 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা ফের শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে সাতটি শর্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে, কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানকে ওয়াশিংটনের আলোচনায় (Iran seven conditions Trump) বসার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আলোচনায় ফেরার শর্তগুলি আমেরিকাকে জানানো হয়েছে। এখন তাঁরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায়।

কী কী শর্ত দিয়েছে ইরান?

ইরানের দেওয়া সাতটি শর্তের সবকটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদ বা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও রয়েছে।

এছাড়া ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। একইসঙ্গে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে চলা সংঘর্ষ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।

ইরানের বক্তব্য, আমেরিকা যদি আগের সমঝোতার বাস্তবায়নে ফিরে আসে এবং শত্রুতা বন্ধ করে, তাহলে তেহরান দ্রুত আলোচনায় ফিরতে পারে। তবে নতুন করে ইরানের উপর হামলা হবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তব নিশ্চয়তাও চেয়েছে তেহরান।

ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষা তেহরানের

মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। পাকিস্তানও এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য নতুন কৌশল নিয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, আমেরিকা নতুন করে হামলা চালালে ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।

এর আগে ট্রাম্পও জানিয়েছিলেন, ইরান একটি চুক্তি চায় এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে।

সৌদি-হাউথি সংঘর্ষে আরও জটিল মধ্যপ্রাচ্য

কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। ইয়েমেনের হাউথিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রিয়াধের কাছে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার দৃশ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা রিয়াধের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবের উপর হাউথি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এই সংঘাতের সঙ্গে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে বাব-এল-মান্দেব প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এর আগে জুনে একটি ১৪ দফা সমঝোতা হয়েছিল। সেই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং পরবর্তী চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোনোর কথা ছিল। তবে জুলাইয়ে ট্রাম্প সেই চুক্তিকে শেষ বলে ঘোষণা করেন। পরে তেহরানও সমঝোতা স্থগিত করে।

এখন ইরানের সাত শর্ত এবং ওয়াশিংটনের আলোচনায় ফেরার প্রস্তুতি নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি বা নতুন চুক্তি হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

আরও খবর