Iran Code 100
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের সংঘর্ষের মধ্যেই ইরানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন রিপোর্ট সামনে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীকে ‘কোড ১০০’ নামে একটি সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রোটোকলে রাখা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ্যে ‘কোড ১০০’ জারির কথা নিশ্চিত করেনি। তাই এর সঠিক পরিধি এবং কার্যকর অবস্থান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
Moneycontrol এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ‘কোড ১০০’-কে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতির স্তর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সতর্কতা সত্যিই জারি হয়ে থাকলে ইরানের IRGC, নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য উচ্চমাত্রায় প্রস্তুত রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই কোডের সরকারি সংজ্ঞা বা বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে ‘কোড ১০০’ ঠিক কী কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ বোঝায়, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের বর্ণনাগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এই রিপোর্ট সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডও জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত বাড়লে তারা অস্ত্র, কৌশল এবং লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও রিয়াধকে লক্ষ্য করে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
এই সংঘর্ষের পাশাপাশি ইয়েমেনে লড়াইও নতুন করে তীব্র হয়েছে। Associated Press-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইয়েমেনে ১৬৪ জন নিহত এবং ৫১৬ জন আহত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, নতুন সংঘর্ষে প্রায় ১.৩ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসগুলি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য বিমান চলাচল বন্ধ, আকাশসীমা পরিবর্তন এবং অন্যান্য পরিবহণ বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
ইরানের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রিপোর্টের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরান নিয়ে তাঁর সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ এবং আলোচনার পথ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। Fox News-এর সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্টের মাধ্যমে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, আমেরিকা নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডও বলেছে, সংঘাত বাড়লে তাদের সামরিক কৌশল এবং লক্ষ্য বদলাতে পারে।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীতেও নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুই জন ক্রু সামান্য আহত হন।
সব মিলিয়ে, ‘কোড ১০০’ সংক্রান্ত রিপোর্ট পশ্চিম এশিয়ার সামরিক উত্তেজনাকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে ইরানের সরকারি নিশ্চিতকরণ না থাকায় এই সতর্কতার প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও সম্ভব নয়।