ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে প্রতারণা, অনুমোদন ছাড়া ইউনেসকোর নাম ও সুনাম ব্যবহারের অভিযোগ এবং সরকারি টেন্ডারে অনিয়মের মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার ইডির দফতর থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে জেরা করা হয়েছে।
বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন, কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছে। লালবাজারের অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের মদতে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুজো সংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে। পাস বিক্রি এবং ইউনেসকোর নাম ব্যবহারের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ‘মাস আর্ট’-এর ইউনেসকোর নাম, সুনাম ও লোগো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। ইন্দ্রনীলের স্ত্রী, মেয়ে ও আত্মীয়দের নামে থাকা কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার অভিযোগও তদন্তাধীন।
ইডির অভিযোগ, সরকারি টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি অনুষ্ঠান ও বইমেলার টেন্ডার ঘনিষ্ঠদের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। লালবাজারের দাবি, পুজো ও টেন্ডার সংক্রান্ত ঘটনায় মোট অভিযোগিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির পরিমাণ ১১৫ কোটি টাকার বেশি।
ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন ‘অক্টে রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা নগদে জমা পড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলেও ইডির দাবি।
কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি ইডিও এই ঘটনার পৃথক তদন্ত করছে। বৃহস্পতিবার ইন্দ্রনীল সেনকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী জয়দীপ বলেন, “২০২৩ সাল থেকে লড়াইয়ের ফল আজ পেলাম।” ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবীর বক্তব্য, “প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ভুয়ো। কোর্টে প্রমাণ দেব।”