• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Sayan Bandyopadhyay Mohun Bagan

ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ‘ঘরের ছেলে’, সায়নের গোলেই ‘শাপমুক্তি’, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস মোহনবাগানে

সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়সূচক গোল এবং সাহাল আবদুল সামাদের দুই গোলের সৌজন্যে মহামেডান স্পোর্টিংকে হারিয়ে আট বছর পর কলকাতা লিগ জিতল মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পর সায়নের এই গোল দলবদল নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব হয়ে উঠল।

ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের ‘ঘরের ছেলে’, সায়নের গোলেই ‘শাপমুক্তি’, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস মোহনবাগানে

Sayan Bandyopadhyay Mohun Bagan

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 19, 2026 8:06 pm
  • Update:September 19, 2026 8:06 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

এক সময় ইস্টবেঙ্গলের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। আইএসএল জয়ের পরই লাল-হলুদ ছেড়ে পড়শি ক্লাব মোহনবাগানে যোগ দেন তিনি। সেই দলবদল নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কটাক্ষও শুনতে হয়েছিল তরুণ ফুটবলারকে।

তবে যাবতীয় সমালোচনার জবাব এবার মাঠেই দিলেন সায়ন। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁর জয়সূচক গোলেই আট বছরের অপেক্ষার অবসান হল। কলকাতা ফুটবল লিগের ট্রফি উঠল মোহনবাগানের ঘরে।

ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগান, সায়নের নতুন পরিচয়

গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কলকাতা লিগ খেলেছিলেন সায়ন। আইএসএলে অবশ্য নিয়মিত সুযোগ পাননি। কার্লেস কুয়াদ্রাতের সময় সিনিয়র দলে তাঁর সুযোগ আসে।

কলকাতা ডার্বিতে দিমিত্রি পেত্রাতোসের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত মুহূর্ত সমর্থকদের নজর কেড়েছিল। আবার পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে গোল করেও নজর কেড়েছিলেন তিনি।

তবে কোচ বদলের সঙ্গে সায়নের পরিস্থিতিও বদলে যায়। নতুন কোচিং সেট আপে ধীরে ধীরে সিনিয়র দলের পরিকল্পনার বাইরে চলে যান তিনি। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তাঁর পথ আলাদা হয়ে যায়।

নতুন মরশুমে সবুজ-মেরুন জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করাই ছিল সায়নের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কলকাতা লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে সেই জবাবই দিলেন তিনি।

পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়াল মোহনবাগান

কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে মোহনবাগানের পারফরম্যান্স খুব একটা নজর কাড়েনি। কোনও রকমে প্রথম তিনে জায়গা করে সুপার সিক্সে ওঠে সবুজ-মেরুন।

তবে শেষ পর্বে বদলে যায় দলের চেহারা। তিন ম্যাচের দু’টিতে জয় তুলে নিয়ে কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান।

মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। সেই অবস্থায় সায়নের গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর পাশাপাশি সাহাল আবদুল সামাদের দুই গোলও দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ম্যাচের পর সায়ন বলেন, গোল করাই তাঁর কাজ। দীর্ঘদিন গোল না পেলেও কঠিন সময়ে গোল করতে পেরে তিনি খুশি। ফলের দিকে না তাকিয়ে গোল করার লক্ষ্যেই মন দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কলকাতা লিগ জয়ের পর এবার মোহনবাগানের হয়েও একই ট্রফি জিতলেন সায়ন। তবে দুই সাফল্যের মধ্যে কোনও একটিকে এগিয়ে রাখতে রাজি নন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, দু’টি সাফল্যই তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে তাঁকে এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। আরও ভালো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়াই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য।

ট্রফি জয়ে আত্মবিশ্বাসী সবুজ-মেরুন

মোহনবাগানের সাফল্যে বড় ভূমিকা ছিল সাহাল আবদুল সামাদেরও। দু’টি গোল করলেও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নিতে চাননি তিনি।

সাহাল জানিয়েছেন, ম্যাচ জেতা সবসময় আনন্দের। তবে জয়ের সঙ্গে ট্রফি পাওয়ার অনুভূতি আলাদা। তাঁর মতে, এই সাফল্য পুরো দলের পরিশ্রমের ফল।

তাঁর মতে, দল নিজেদের ছন্দে থাকলে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ফিরে আসার ক্ষমতা রয়েছে। এক বা দুই গোলে পিছিয়ে থাকলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাঁদের মানসিকতা।

আগামী দিনে আইএফএ শিল্ড এবং আইএসএলের মতো প্রতিযোগিতা রয়েছে। তার আগে কলকাতা লিগের এই সাফল্য তরুণ ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করেন সাহাল।

মোহনবাগানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শুভাশিস বোসও জানিয়েছেন, কলকাতা লিগ জিতে দলের লক্ষ্যপূরণ হয়েছে। ক্লাব কর্তা দেবাশিস দত্তের আশা, কলকাতা লিগ ভবিষ্যতেও একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকবে।

আট বছরের খরা কাটিয়ে ট্রফি জয়ের আনন্দে বাঁধ ভাঙে মোহনবাগান সমর্থকদের। বারাসত স্টেডিয়াম থেকে ফেরার পথে সবুজ-মেরুন আবিরে অকাল হোলিতে মাতেন তাঁরা।

সায়নও ভাসলেন সমর্থকদের ভালোবাসায়। এবার তাঁদের আবদার আরও বড়। কলকাতা লিগের পর এবার আইএসএল ট্রফিও চাই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের।

আরও খবর