Tata Trusts vs Tata Sons dispute
টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন আদালতের দরজায়। কিন্তু এই লড়াইয়ের প্রভাব শুধু আইনি সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকছে না। টাটা ব্র্যান্ডের দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তি এবং আস্থার প্রশ্নও (Tata Trusts vs Tata Sons dispute) সামনে এসেছে।
আদালত শেষ পর্যন্ত যে পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করুক না কেন, এই বিতর্ক টাটা গোষ্ঠীর জন্য ইতিমধ্যেই একটি মূল্য তৈরি করেছে। তাঁর মতে, সেটি হল প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার উপর তৈরি হওয়া প্রশ্ন।
বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ।
টাটা ট্রাস্টসের হাতে টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ট্রাস্টগুলির দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বর চন্দ্রশেখরনের আরও পাঁচ বছরের মেয়াদে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার Articles of Association-এ থাকা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হয়নি।
ট্রাস্টগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাস্ট মনোনীত দুই পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন ছিল। নোয়েল টাটা পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দেন। অন্যদিকে ভেনু শ্রীনিবাসন পক্ষে ভোট দেন।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাস্টগুলির দাবি, তাঁদের মনোনীত দুই পরিচালকের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না থাকায় পুনর্নিয়োগটি বৈধ নয়। টাটা সন্স অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।
বিতর্কের আগে ঘটনাপ্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ।
১২ অগস্ট চন্দ্রশেখরন বোর্ডকে জানিয়েছিলেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে তিনি আর নতুন মেয়াদ চাইবেন না। টাটা ট্রাস্টস সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয় এবং উত্তরসূরি বাছাইয়ের জন্য Articles অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিটি গঠনের কথা বলে।
কিন্তু প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরে টাটা সন্সের বোর্ড চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ করে।
টাটা সন্সের বক্তব্য, তাদের Nomination and Remuneration Committee সর্বসম্মতভাবে চন্দ্রশেখরনকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিল। এরপর তিনি নতুন মেয়াদ গ্রহণে সম্মত হন।
এই ঘটনাপ্রবাহই বর্তমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
টাটা ব্র্যান্ডের শক্তি শুধু তার সম্পদ বা ব্যবসায়িক সাফল্যে নয়। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনমানসে টাটা একটি নির্দিষ্ট কর্পোরেট মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
টাটা ট্রাস্টসের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দিয়েছেন যে, বোর্ড যদি মালিকদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক অধিকার উপেক্ষা করতে পারে, তাহলে ভারতের বহু সংস্থায় কর্পোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে টাটা সন্সের পক্ষে আইনজীবী হরিশ সালভের অবস্থান হল, টাটা সন্স একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। কয়েকজন ট্রাস্টির মতপার্থক্যের কারণে এমন একটি সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অচল হওয়া উচিত নয়।
এই দুই ব্যাখ্যার মধ্যেই বর্তমান সংঘাতের মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে।
লেখকের মতে, আদালত Articles of Association-এর আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারবে। কিন্তু টাটা ব্র্যান্ড মানুষের কাছে কী বোঝায়, সেই প্রশ্নের উত্তর আদালতের রায়ে নির্ধারিত হবে না।
এই কারণেই তাঁর বিশ্লেষণে বর্তমান লড়াই শুধু চেয়ারম্যান পদ বা বোর্ডের ভোটাভুটির লড়াই নয়। এটি টাটা গোষ্ঠীর কর্পোরেট পরিচয়, শেয়ারহোল্ডার সম্পর্ক এবং জনআস্থার প্রশ্নও সামনে এনেছে।
তবে এটি একটি মতামতধর্মী বিশ্লেষণ। লেখকের মূল্যায়ন আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। টাটা ট্রাস্টস ও টাটা সন্স—দুই পক্ষের আইনি অবস্থানই এখনও বিচারাধীন।