• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Animal-Derived Ingredients Packaging Rules

ভেজ না নন-ভেজ? প্যাকেটের খাবারে প্রাণীজ উপাদান চেনা আরও সহজ হতে পারে

প্যাকেটজাত খাবারে প্রাণীজ উপাদান আরও সহজে চেনানোর জন্য প্যাকেজিং নিয়মে পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে। ভারতে ইতিমধ্যেই FSSAI-এর নিয়মে ভেজ খাবারের জন্য সবুজ বৃত্ত এবং নন-ভেজ খাবারের জন্য বাদামি ত্রিভুজের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য ক্রেতাদের কাছে উপাদানের উৎস আরও স্পষ্ট করা।

ভেজ না নন-ভেজ? প্যাকেটের খাবারে প্রাণীজ উপাদান চেনা আরও সহজ হতে পারে

Animal-Derived Ingredients Packaging Rules

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 22, 2026 1:13 pm
  • Update:September 22, 2026 1:13 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় খাবারটি নিরামিষ না আমিষ, তা বোঝা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনও পণ্যে সরাসরি মাংস বা মাছ না থাকলেও প্রাণীজ উপাদান থাকতে পারে। এবার সেই তথ্য আরও সহজে বোঝানোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

খাবারের প্যাকেজিংয়ে প্রাণীজ উৎস থেকে আসা উপাদান আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার নিয়ম নিয়ে পরিবর্তনের কথা সামনে এসেছে। এর উদ্দেশ্য হল, ক্রেতারা প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ভারতে ইতিমধ্যেই FSSAI-এর নিয়ম অনুযায়ী প্যাকেটজাত খাবারে নিরামিষ ও আমিষের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। নিরামিষ খাবারের জন্য সবুজ বৃত্ত এবং আমিষ খাবারের জন্য বাদামি ত্রিভুজের প্রতীক রয়েছে।

প্রাণীজ উপাদান চেনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক প্যাকেটজাত খাবারে এমন উপাদান থাকতে পারে যার নাম দেখে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে উৎস বোঝা কঠিন। কোনও উপাদান ডিম, দুধ বা অন্য প্রাণীজ উৎস থেকে তৈরি কি না, তা সবসময় সহজে বোঝা যায় না।

বিশেষ করে খাদ্য সংযোজক, ফ্লেভারিং এজেন্ট বা প্রসেসিংয়ের সময় ব্যবহৃত কিছু উপাদানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে।

বর্তমান FSSAI লেবেলিং নিয়মে খাদ্যপণ্যের উপাদান তালিকা, পুষ্টিগুণ এবং নিরামিষ বা আমিষের ঘোষণা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লেবেলের তথ্য স্পষ্ট, দৃশ্যমান এবং সহজে পড়া যায়—এমন হওয়াও নিয়মের অংশ।

ফলে নতুন প্যাকেজিংয়ের উদ্দেশ্য শুধু ‘ভেজ’ বা ‘নন-ভেজ’ লেখা নয়। বরং কোনও প্রাণীজ উপাদান থাকলে তা ক্রেতার নজরে আরও সহজে আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্যাকেটের সবুজ ও বাদামি চিহ্নের অর্থ কী?

FSSAI-এর বর্তমান ব্যবস্থায় নিরামিষ খাবারের জন্য সবুজ রঙের বৃত্তের প্রতীক ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, প্রাণীজ উপাদান থাকা নন-ভেজ খাবারের জন্য বাদামি রঙের ত্রিভুজ ব্যবহার করা হয়।

FSSAI-এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিম, মাংস, মাছ বা সেগুলি থেকে তৈরি উপাদান থাকলে সংশ্লিষ্ট খাবারকে নন-ভেজ হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়। নিরামিষ খাবারের ক্ষেত্রে উদ্ভিদজাত উৎসের উপাদান ব্যবহারের ঘোষণা থাকে।

কোনও খাবারে শুধুমাত্র ডিম নন-ভেজ উপাদান হলে অতিরিক্তভাবে সেই বিষয়টি উল্লেখ করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অর্থাৎ, প্যাকেটের সামনে থাকা ছোট্ট প্রতীকটি ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। তবে উপাদানের পূর্ণ তালিকা পড়াও জরুরি।

নতুন নিয়মে ক্রেতাদের কী সুবিধা হতে পারে?

প্যাকেজিংয়ে প্রাণীজ উপাদান আরও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হলে ক্রেতাদের পণ্য বাছাই সহজ হতে পারে। নিরামিষভোজী, ধর্মীয় কারণে নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা মানুষ এবং খাদ্যাভ্যাসের বিশেষ পছন্দ থাকা ক্রেতারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

অনলাইনে খাবার কেনার ক্ষেত্রেও লেবেলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। FSSAI-এর নিয়ম অনুযায়ী, ই-কমার্স বা সরাসরি বিক্রির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হলে বাধ্যতামূলক লেবেল-সংক্রান্ত তথ্য বিক্রির আগে ক্রেতাকে জানানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এদিকে FSSAI ২০২৬ সালে ভেগান খাবারের লোগো সংক্রান্ত সংশোধিত নিয়মও প্রকাশ করেছে। সরকারি নথিতে জুন ২০২৬-এ ‘Vegan Foods’ সংশোধনী বিধি প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

তাই আগামী দিনে প্যাকেটের খাবারে শুধু ‘ভেজ’ বা ‘নন-ভেজ’ নয়, উপাদানের উৎস সম্পর্কেও আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তবে নতুন কোনও প্যাকেজিং নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং কার্যকর হওয়ার তারিখ দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে FSSAI-এর বিদ্যমান লেবেলিং ব্যবস্থায় নিরামিষ ও আমিষের চিহ্ন ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক কাঠামোর অংশ।

আরও খবর