Matcha craze in India
ভারতে চা এবং ফিল্টার কফির জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। তবে পানীয়ের পছন্দে নতুন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বাদের পানীয় নিয়ে বাড়ছে ভারতীয়দের কৌতূহল।
Google Search Trends-এর সাম্প্রতিক তথ্য সেই ছবিই তুলে ধরছে। গত এক বছরে ভারতে “how to make matcha” সার্চ বেড়েছে ১৩০০ শতাংশ। অর্থাৎ এবার শুধু ক্যাফেতে ম্যাচা খাওয়ার আগ্রহ নয়। বাড়িতেও এই পানীয় বানানোর প্রবণতা বাড়ছে।
একসময় ভারতে ম্যাচা ছিল তুলনামূলক অপরিচিত একটি পানীয়। এর সবুজ রং এবং ঘাসের মতো স্বাদ নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ ছিল না। এখন ছবিটা বদলেছে।
আইসড ম্যাচা লাটে থেকে শুরু করে ম্যাঙ্গো ম্যাচা ও স্ট্রবেরি ম্যাচা—বিভিন্ন ধরনের পানীয় জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ম্যাচা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
Google-এর তথ্য বলছে, আগস্ট ২০২৬-এ “matcha whisk” এবং “matcha bowl” সার্চও breakout পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মানুষ শুধু পানীয়টি কোথায় পাওয়া যায়, তা জানতে চাইছেন না। কীভাবে তৈরি করতে হয়, তার সরঞ্জাম নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে।
ম্যাচার স্বাস্থ্যগুণ নিয়েও সার্চ বেড়েছে। “matcha health” সার্চ গত এক বছরে ১০০০ শতাংশ বেড়েছে। “matcha protein” সার্চ বেড়েছে ২৫০০ শতাংশ।
ম্যাচাকে ঘিরে নতুন নতুন স্বাদের পরীক্ষাও চলছে। গরমের সময়ে “mango matcha” সার্চ ২০০ শতাংশ বেড়েছিল। “strawberry matcha” সার্চ বেড়েছিল ৪০০ শতাংশ।
বর্ষার সময়ে “dirty matcha” এবং “coconut matcha” নিয়েও breakout search দেখা যায়। ফলে ম্যাচা এখন শুধুই একটি নির্দিষ্ট ধরনের জাপানি পানীয় নয়। এর সঙ্গে ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক নানা স্বাদ মেশানো হচ্ছে।
ম্যাচা নিয়ে শুধু পানীয়ের সার্চই বাড়েনি। “matcha near me” সার্চেও শহরভেদে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দিল্লি, গোয়া এবং চণ্ডীগড় এই সার্চে উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করেছে।
এমনকি ম্যাচার প্রভাব খাবারের বাইরেও দেখা যাচ্ছে। “matcha candle”, “matcha face wash” এবং “matcha perfume”-এর মতো পণ্যের সার্চও বেড়েছে।
ভারতীয়দের পানীয়ের তালিকায় শুধু ম্যাচাই জায়গা করে নিচ্ছে না। Google Search Trends-এ উবে এবং হোজিচার প্রতিও বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
উবে হল ফিলিপিনো রান্নায় জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক বেগুনি রঙের কন্দ। ভারতে গত এক বছরে উবে নিয়ে সার্চ ক্রমশ বেড়েছে। আগস্ট ২০২৬-এ তা সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছয়।
“ube matcha” এবং “ube coconut” breakout search হয়েছে। “ube latte” এবং “ube cafe” নিয়েও আগ্রহ বেড়েছে। ভারতে উবে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সার্চ হয়েছে তেলঙ্গানা থেকে।
অন্যদিকে হোজিচা হল জাপানি গ্রিন টি-র একটি roasted version। ম্যাচার তুলনায় এর স্বাদ বেশি গভীর, বাদামি এবং কম grassy।
হোজিচা নিয়ে সার্চ মার্চ ২০২৬-এ সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আগস্টে “what is hojicha” এবং “hojicha latte” নিয়ে breakout search দেখা যায়। “hojicha vs matcha” নিয়েও তুলনামূলক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ ভারতের পানীয় সংস্কৃতিতে চা-কফির পাশাপাশি এখন নতুন আন্তর্জাতিক স্বাদের জায়গা তৈরি হচ্ছে। ক্যাফে সংস্কৃতি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বাড়িতে নতুন পানীয় তৈরির প্রবণতা এই পরিবর্তনকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে।