Suvendu Cabinet Agnimitra Sharadwat
রাস্তায় নেমে অতিসক্রিয়তা নয়। বরং নিজেদের দফতরে বসে প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি মন দিতে হবে। বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুই মন্ত্রীকে এমনই ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে সরকারি সূত্রের খবর।
সূত্রের দাবি, ওই দুই মন্ত্রী হলেন অগ্নিমিত্রা পাল এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁদের জনসংযোগ বা রাস্তায় নেমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের দফতরের কাজের দিকে আরও বেশি নজর দিতে বলা হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় নেমে প্রশাসনিক কাজকর্মে সক্রিয় হয়েছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করা থেকে শুরু করে পথ নিরাপত্তা এবং বাজারের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে।
কখনও সব্জিবিক্রেতাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন তিনি। আবার কোথাও ফুটপাথে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ ফোটানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। পথ নিরাপত্তার বিষয়েও মাইক হাতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
বাজার এলাকায় সাইকেল রাখা নিয়েও বিক্রেতাদের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। পাশাপাশি ফুটপাথবাসীদের সঙ্গে জনসংযোগের ছবিও সামনে এসেছে।
এই ধরনের একাধিক ভিডিয়ো ও কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁকে দফতরের কাজে আরও বেশি মন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও সম্প্রতি প্রশাসনিক কাজে সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে তাঁকে দেখা গিয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে তিনি একাধিক জায়গায় গিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও স্বাস্থ্য দফতরের কাজকর্ম নিয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।
তবে বুধবারই বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ‘বিধায়ক দরবারে’ একটি ঘটনাকে ঘিরে চর্চা তৈরি হয়। রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য বাদানুবাদ হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর পরেই নবান্নের বৈঠকে অগ্নিমিত্রার পাশাপাশি শারদ্বতকেও দফতরের কাজে আরও ‘ফোকাসড’ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়োগপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দফতর ধরে ধরে নিয়োগের জটিলতা কাটানোর কথা বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রতিটি দফতরে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করে সরকারি পরিষেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে বলে দাবি।
এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
একই সঙ্গে মন্ত্রীদের বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে বলা হয়েছে। তা না হলে পরবর্তী বাজেটে বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।