Shubhendu Adhikari Writers Building
পুজোর আর বেশি দেরি নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই উৎসবে মেতে উঠবে গোটা বাংলা।
তার আগেই রাজ্যের প্রশাসনিক মানচিত্রে আসতে পারে বড় বদল। নবান্ন ছেড়ে ফের মহাকরণে বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে তাঁর দপ্তর চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর।
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর চেম্বার তৈরির কাজও সেই সময়ের মধ্যে শেষ হতে পারে।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর নয়। মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের ঘরও তৈরি করা হচ্ছে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের প্রশাসনিক অংশ দ্রুত প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সেখানেই অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী এবং ছয় মন্ত্রীর চেম্বার প্রস্তুত করার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। রয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দার। এই ছয় মন্ত্রীর জন্য রাইটার্সে চেম্বার তৈরি করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে রাইটার্সের সব অংশের সংস্কার এখনই শেষ হচ্ছে না। ক্যাবিনেট রুম এবং রোটান্ডার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ পরে হওয়ার কথা। অর্থাৎ প্রথম ধাপে প্রশাসনিক কাজ চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অংশ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সঙ্গে বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয়ের অধিকাংশ দফতর নবান্নে সরানো হয়।
মূল কারণ ছিল পুরনো ভবনটির সংস্কার এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা। এরপর রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের বড় অংশ বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাইটার্স থেকে প্রশাসন চালানোর কথা সামনে আসে।
কিন্তু সংস্কারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এখনও নবান্ন থেকেই প্রশাসনিক কাজ চলছে।
এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামগ্রিক সংস্কার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদানি গোষ্ঠী এই ঐতিহাসিক ভবন সংস্কারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করেছেন। ভবনের কাঠামো এবং সংস্কারের সম্ভাব্য পরিধি খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। আদানি গোষ্ঠীকে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত বরাত দেওয়া হয়েছে—এমন সরকারি ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। তাই আপাতত বিষয়টি সম্ভাব্য সংস্কার পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে আগামী দিনে সংস্কারের দায়িত্ব কার হাতে যায়, সেটাই এখন দেখার।
তার আগে অবশ্য প্রশাসনিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে রাইটার্স বিল্ডিং নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ কয়েকজন মন্ত্রীর চেম্বার তৈরি হলে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী কবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাইটার্সে বসবেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা হয়নি।