• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Indian Knowledge Systems

নেতৃত্ব থেকে কর্মদক্ষতা, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা! বড় উদ্যোগ বি.আর.সি.-র

ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরাকে আধুনিক নেতৃত্ব ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার বা বি.আর.সি. ভিমেন্টর.এআই এবং সারথি.এআই-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে। নেতৃত্ব বিকাশ, সাংগঠনিক সংস্কৃতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে এই জ্ঞান প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

নেতৃত্ব থেকে কর্মদক্ষতা, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরা! বড় উদ্যোগ বি.আর.সি.-র

Indian Knowledge Systems

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 15, 2026 12:38 pm
  • Update:September 15, 2026 12:38 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরাকে আধুনিক কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিল ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার বা বি.আর.সি.।

ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা বা Indian Knowledge Systems-এর গবেষণাকে সমকালীন নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করতে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই লক্ষ্যে ভিমেন্টর.এআই এবং সারথি.এআই-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে বি.আর.সি.। মুম্বইয়ের জুহু ইস্কন মন্দিরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভিমেন্টর.এআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মীনু ভাটিয়া এবং ড. শ্রীনিবাস চুন্দুরু। বি.আর.সি.-র পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন ট্রাস্টি শ্রী গৌরাঙ্গ দাস এবং ড. সুমন্ত রুদ্র।

প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ

ভারতের প্রাচীন জ্ঞান-ঐতিহ্যে নেতৃত্ব, মানব আচরণ, নৈতিকতা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে দীর্ঘ চিন্তাভাবনা রয়েছে। রয়েছে আত্মনিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়েও নানা ধারণা।

এই জ্ঞানকে শুধু ইতিহাস বা দর্শনের বিষয় হিসেবে না দেখে বর্তমান কর্মক্ষেত্রে তার ব্যবহারিক গুরুত্ব খুঁজে দেখাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নেতৃত্ব, সাংগঠনিক সংস্কৃতি থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ

এই অংশীদারিত্বের আওতায় একাধিক কর্মসূচি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নেতৃত্ব বিকাশ তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

এর পাশাপাশি সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও কাজ করা হবে। কর্মীদের কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়টিও থাকবে এই উদ্যোগের কেন্দ্রে।

সামনের সারিতে থাকা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও বিশেষ কর্মসূচি তৈরি করা হবে। অর্থাৎ ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার ধারণাকে আধুনিক কর্মক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হবে।

বি.আর.সি.-র ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র জানিয়েছেন, ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের গবেষণা এবং জ্ঞানচর্চাকেই এই কর্মসূচির ভিত্তি করা হবে।

তবে একই সঙ্গে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার গভীরতা এবং স্বকীয়তা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থাৎ আধুনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংযোগ তৈরি হলেও মূল জ্ঞান-ঐতিহ্যের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক বিকাশের ক্ষেত্রে ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

গবেষণা, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়

ভিমেন্টর.এআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মীনু ভাটিয়ার মতে, ভারতের নিজস্ব বৌদ্ধিক ঐতিহ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে নেতৃত্ব, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মদক্ষতার ক্ষেত্রে সেই জ্ঞান কতটা কার্যকর হতে পারে, তা খতিয়ে দেখাই অংশীদারিত্বের অন্যতম লক্ষ্য।

বি.আর.সি.-র ট্রাস্টি শ্রী গৌরাঙ্গ দাসও ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থার বিস্তৃত পরিসরের কথা তুলে ধরেছেন।

তাঁর মতে, মানব আচরণ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, উদ্দেশ্য, শিক্ষা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরায় বিপুল জ্ঞান রয়েছে।

আধুনিক সময়ে সেই জ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। তবে সেই কাজ করতে গিয়ে ঐতিহ্যের গভীরতা এবং স্বকীয়তা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই অংশীদারিত্বে তিনটি ভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে আনার চেষ্টা হচ্ছে। বি.আর.সি. দেবে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ভিত্তি।

ভিমেন্টর.এআই যুক্ত করবে নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে সারথি.এআই-এর প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পদ্ধতি এই উদ্যোগকে আরও আধুনিক কাঠামো দিতে পারে।

ফলে ভারতীয় জ্ঞান-পরম্পরার সঙ্গে আধুনিক কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনের একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়। বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর্মীদের দক্ষতা এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে ভারতীয় জ্ঞান কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই হবে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আরও খবর