Abhishek Banerjee Camac Street office
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দফতর খালি করার নোটিসকে ঘিরে মামলা ফের নিম্ন আদালতে পাঠাল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন। তাই সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শুনে সিটি সিভিল কোর্টকেই মামলাটি (Abhishek Banerjee Camac Street office) নিষ্পত্তি করতে হবে।
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সন্দীপকুমার দে-র ডিভিশন বেঞ্চ পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর আদালতের স্বাভাবিক কাজ শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইনজাংশন বা ‘স্টেটাস কো’ সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে।
ক্যামাক স্ট্রিটের সম্পত্তি খালি করার নোটিসকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকপক্ষ এবং তৃণমূলের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। এর আগে সিটি সিভিল কোর্ট সম্পত্তিতে ‘স্টেটাস কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। অর্থাৎ, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বাড়ির মালিকপক্ষ হাই কোর্টে যায়। বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মামলাটির বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই নিম্ন আদালতেই দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সিটি সিভিল কোর্টের বিচারপতি সুধীর কুমার মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ‘স্টেটাস কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই অন্তর্বর্তী অবস্থার কথাও উঠে এসেছে।
৯ ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে ওই ভবনের একটি বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কলকাতা পুরসভা ওই সাইনবোর্ড সরিয়ে দেয় এবং তৃণমূল এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। হাই কোর্ট তখন অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয়নি।
এর পর ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে দমকল বিভাগের নোটিস আসে। দমকল কর্তৃপক্ষ ভবনের নির্দিষ্ট তলায় অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘাটতির কথা উল্লেখ করে জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সেই নির্দেশ বাতিল করে নতুন করে নোটিস দিয়ে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।
এদিকে সম্পত্তির মালিক রামাদেবী গোয়েন্কার আইনজীবী সাগ্নিকা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ২০২০ সালে যুব তৃণমূলের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কমপ্লিশন সার্টিফিকেট বা CC দেওয়ার পর দফতর ব্যবহারের কথা ছিল। মালিকপক্ষের অভিযোগ, সেই শর্ত পূরণ না করেই জায়গাটি দখলে নেওয়া হয়েছিল।
মালিকপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, চুক্তির শর্ত পূরণ না করেই তৃণমূলের তরফে জায়গাটি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
তৃণমূলের বক্তব্য, ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে তাদের সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে সম্পত্তির মালিকানা, লিজ়ের শর্ত এবং দফতর ব্যবহারের অধিকার নিয়ে আইনি বিরোধ এখন মূল মামলার শুনানিতে বিস্তারিতভাবে বিবেচিত হবে।
এর আগে দমকল সংক্রান্ত মামলায়ও হাই কোর্ট বলেছিল, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পরিদর্শন করতে হবে। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর নিয়ে এখন একাধিক পৃথক আইনি বিষয় সামনে রয়েছে।