Kalyan Bainsla Gurugram hit-and-run
গুরগাঁওয়ের আলোচিত হিট অ্যান্ড রান মামলায় বড়সড় অগ্রগতি। মহিলা বাইকারকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কল্যাণ বেইনসলাকে রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে রাজস্থানের দৌসা এলাকা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রবিবার গুরগাঁওয়ের গল্ফ কোর্স রোডে ঘটনাটি ঘটে। একটি সাদা Maruti Suzuki Ciaz গাড়ি আচমকা দিক বদলে এক মহিলা বাইকারকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান তিনি।
ওই মহিলা বাইকার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘Sia’ নামে পরিচিত। তিনি Aprilia RS 457 স্পোর্টস বাইক চালাচ্ছিলেন। ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।
প্রথমে এই ঘটনায় গুরগাঁও পুলিশ BNS-এর ১২৫ এবং ২৮১ ধারায় মামলা করেছিল। তবে তখন FIR-এ অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুরু করেছিল।
পরবর্তী তদন্তে CCTV ফুটেজ এবং অন্যান্য ভিডিও খতিয়ে দেখে পুলিশ ঘটনাটিকে আরও গুরুতর বলে মনে করে। এরপর মামলায় BNS-এর ১০৯ ধারা যোগ করা হয়। এই ধারাটি হত্যার চেষ্টার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, CCTV বিশ্লেষণের পর গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বাইকারকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগের দিকটি গুরুত্ব পায়।
অন্যদিকে, কল্যাণ বেইনসলা আগে দাবি করেছিলেন যে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তাঁর বক্তব্য ছিল, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর কল্যাণ বেইনসলা সংবাদমাধ্যমে নিজের বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি বাইকারদের সঙ্গে কোনও সংঘাতে যেতে চাননি। গাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে থামলে বাইকারদের দল তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।
তবে মহিলা বাইকার Sia তাঁর বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, গাড়িটি তাঁকে অনুসরণ করছিল। পরে গাড়িটি তাঁর বাইকের দিকে ঘুরিয়ে ধাক্কা দেওয়া হয়।
Sia আরও প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনাটি যদি সত্যিই নিছক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে কল্যাণ কেন গাড়ি থামিয়ে সাহায্য করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই দুর্ঘটনাটি প্রাণঘাতী হতে পারত।
পুলিশ এখন কল্যাণ বেইনসলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখবে। গাড়িটি এক সেনা আধিকারিকের নামে রেজিস্টার করা ছিল এবং কল্যাণ সেটি ধার নিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।