Arvind Kejriwal SIR notice
দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়ায় কেজরিওয়াল ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নোটিসের অর্থ এখনই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নয়। তাঁদের নাম “Unmapped with Last SIR” শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ আগের SIR-এর রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। সেই কারণে যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় তাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন দফতরের নোটিস পেয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়ালও নোটিস পেয়েছেন। একই তালিকায় রয়েছেন কেজরিওয়ালের বাবা গোবিন্দ রাম কেজরিওয়াল এবং মা গীতা দেবী।
কেজরিওয়ালের ২৫ বছরের ছেলে পুলকিত কেজরিওয়ালকেও একই শ্রেণিতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পরিবারের মোট পাঁচ সদস্যের ভোটার রেকর্ড নিয়ে যাচাই চাওয়া হয়েছে।
এই পাঁচজনই নয়াদিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট অংশে মোট ১১০ জন ভোটারকে এই ধরনের নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এখন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সামনে তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য পেশ করতে হবে। এরপরই তাঁদের ভোটার রেকর্ডের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দিল্লির SIR নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। খসড়া ভোটার তালিকায় ৪৭ লক্ষের বেশি নাম না থাকা নিয়ে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তাঁর বক্তব্য ছিল, SIR-এর মাধ্যমে ভোটার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কেজরিওয়াল দাবি করেছিলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধী ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এগুলি কেজরিওয়ালের রাজনৈতিক অভিযোগ। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধও রয়েছে।
দিল্লির SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ১.৪৫ কোটি বিদ্যমান ভোটারের মধ্যে ৪৭.৫৬ লক্ষের বেশি ভোটারের enumeration form সংগ্রহ বা ডিজিটাইজ করা যায়নি। নির্বাচন দফতর জানিয়েছিল, এই তালিকায় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত ভোটাররাও ছিলেন।
অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে নাম না থাকা মানেই স্থায়ীভাবে ভোটাধিকার হারানো নয়। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন। দিল্লির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এই প্রক্রিয়া নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
“Unmapped with Last SIR” শ্রেণির অর্থ হল বর্তমান ভোটার তথ্যের সঙ্গে আগের SIR-এর রেকর্ডের নির্দিষ্ট যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এই শ্রেণিতে থাকা ভোটারদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। কেজরিওয়াল পরিবারের পাঁচ সদস্যও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছেন।
এখনই তাঁদের ভোটার হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, এমন তথ্য নেই। নোটিস পাওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াই পরবর্তী ধাপ।
এদিকে দিল্লির SIR নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে। আম আদমি পার্টি কেজরিওয়ালকে নোটিস দেওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে দেখছে। অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বিষয়টি বর্তমানে ভোটার রেকর্ড যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই সামনে এসেছে।
ফলে এই মুহূর্তে মূল প্রশ্ন কেজরিওয়ালের নাম বাদ গেল কি না নয়। বরং যাচাইয়ের পর তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কী অবস্থায় থাকে, সেটিই এখন নজরে।