US Fed rate impact on India
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন নজর গোটা বিশ্বের। ভারতের বাজারেও এই সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে পারে।
১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মার্কিন ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ হওয়ার কথা। বাজারে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাহলে মার্কিন সুদ বেড়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ হতে পারে।
তবে শুধু সুদের হার নয়। Fed চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ফেড সুদ বাড়ালে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতীয় টাকার উপর ইতিমধ্যেই চাপ রয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর টাকা ডলারের তুলনায় ৯৫.৯৫৫০-তে বন্ধ হয়েছে। দিনের মধ্যে তা ৯৫.৯৭৫০ পর্যন্ত নেমেছিল। এটি ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন স্তর।
ভারতীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বন্ডের ফলন বেশি হলে কিছু বিনিয়োগকারী মার্কিন সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাতে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কও পরিস্থিতি সামলাতে সক্রিয় রয়েছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে RBI হস্তক্ষেপ করেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
ভারতের জন্য আরেকটি বড় বিষয় হল অপরিশোধিত তেলের দাম। Brent crude-এর দাম ১৬ সেপ্টেম্বর ১০০ ডলারের উপরে ছিল। ET-এর হিসাবে তা প্রায় ১০৮ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছিল। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। তাই তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বেড়ে যায়।
তার সঙ্গে টাকা দুর্বল হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়। কারণ একই পরিমাণ তেল কিনতে বেশি টাকা খরচ করতে হয়। আগস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি ২৫.৮ শতাংশ বেড়ে ১৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এই সময়ে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিও ছিল ২৬.৮৬ বিলিয়ন ডলার।
তেলের দাম বেশি থাকলে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পরে সাধারণ পণ্যের দামেও পড়তে পারে।
Fed-এর সিদ্ধান্তের আরেকটি বড় প্রভাব পড়তে পারে বন্ড বাজারে। মার্কিন ১০ বছরের Treasury yield সম্প্রতি ৫ শতাংশের উপরে উঠেছিল। ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে এই ফলন ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল।
মার্কিন বন্ডের ফলন বেশি থাকলে ভারতীয় বন্ডেও চাপ তৈরি হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্ন চাইতে পারেন। ফলে ভারতের সরকারি বন্ডের yield বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।ভারতের ১০ বছরের সরকারি বন্ডের yield ইতিমধ্যেই ৭.০৯ শতাংশের উপরে ছিল।
মুদ্রাস্ফীতিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৪.৮২ শতাংশে উঠেছে।
এটি RBI-র ৪ শতাংশের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের উপরে। তবে ভারতের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে GDP বৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও রেকর্ড স্তরে রয়েছে।
তাই Fed-এর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কেভিন ওয়ার্শ ভবিষ্যতের সুদের হার নিয়ে কী ইঙ্গিত দেন, সেটিই এখন বড় বিষয়। আরও সুদ বাড়ানোর ইঙ্গিত এলে ভারতীয় টাকা ও বন্ডে চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের বৃদ্ধি যথেষ্ট বলে ইঙ্গিত দিলে বাজারের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে শান্ত হতে পারে।