রুশ ডিজ়েল রফতানিতে ছাড়
রুশ ডিজ়েল রফতানির উপর বিধিনিষেধ সাময়িক ভাবে শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের সঙ্গে কথা বলে সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।
অবিলম্বে ৩ লক্ষ টন ডিজ়েল আমেরিকা ও বিশ্ব বাজারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরে ১০ লক্ষ টন পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর রুশ জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে। এই ছাড় ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা, তবে রাশিয়ার উপর জারি থাকা সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি।
৯ অক্টোবর ট্রাম্প রুশ জ্বালানি রফতানির বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেন। জ়েলেনস্কি রুশ ডিজ়েল কেনার সিদ্ধান্তকে দুর্বল ও অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, মস্কোকে পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ দিলে সেই অর্থ যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া।
জ়েলেনস্কির সমালোচনার জবাবে ১০ অক্টোবর ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এমন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। তাঁর দাবি, জ়েলেনস্কি তা করতে পারছেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন তার দেশের ৩০ শতাংশ হারিয়েছে এবং ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন।
ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় ২০২৪ সালের নির্ধারিত নির্বাচন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জ়েলেনস্কি ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদে বসেন।
১১ অক্টোবর ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর হচ্ছে এবং দুই দেশই তাতে সম্মত হয়েছে। জ়েলেনস্কি সেই দাবি অস্বীকার করে বলেন, এই খবর তিনি প্রথম শুনেছেন। তিনি জানান, উত্তেজনা কমানো, জীবন রক্ষা, যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন, তবে ইউক্রেনের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধি ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির উপর জনঅসন্তোষ তৈরি করেছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত সেই চাপ সামলানোর প্রচেষ্টা হতে পারে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা রুশ তেলের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হওয়ায় বিষয়টি দিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।