সৌদি আরবে পাকিস্তানি বাহিনী
হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের তথ্য। পাকিস্তানের বাহিনী ইতিমধ্যেই সৌদিতে রয়েছে। নতুন করে কত সেনা মোতায়েন করা হবে, তা জানানো হয়নি।
পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনও এক সদস্যের উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। পাকিস্তান ও সৌদি আরব ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেছেন, রিয়াধে পাকিস্তানের ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। হুমকির মাত্রা মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার মধ্যে রিয়াধ বিমানবন্দরে দু’বার হামলার উল্লেখ রয়েছে। সৌদি পরিকাঠামো এবং তেল সরবরাহও হামলার প্রভাবের মুখে পড়েছে বলে সূত্রে বলা হয়েছে। হুথিরা বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধের কথাও জানিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বিমান হামলা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে “fake and fabricated” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্সে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলা হলেও পাকিস্তান সেই সংখ্যাকে অনুমানভিত্তিক বলে জানিয়েছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেছেন, “any new intervention would only make the situation more complicated”। হুথিদের তরফেও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হয়ে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিলে পাকিস্তানকে সৌদি আরবের মতোই বিবেচনা করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৬৭ সালে গামাল আবদেল নাসেরের নেতৃত্বে মিশর ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল। নাসেরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ সেনা পাঠানোর পর বাহিনী ৭০ হাজারে বাড়ানো হয়। সূত্রের দাবি, ওই যুদ্ধে ১০ হাজারের বেশি মিশরীয় সেনা নিহত হন এবং মিশরের অর্থনীতিও বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সংসদ ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তাবে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।