Stanford AI controversy
আমেরিকার বিখ্যাত Stanford University-কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে AI ব্যবহার করে এক ছাত্রের চেহারা ও পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।
ঘটনাটি Stanford-এর Residential and Dining Enterprises-এর একটি প্রচারমূলক ব্যানারকে কেন্দ্র করে। মূল ছবিটি ২০২৪ সালে একটি Lunar New Year অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছিল। ছবিতে তিনজন ছাত্রছাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন Stanford-এর Billy Ramirez নামের এক Hispanic ছাত্র।
কিন্তু পরে সেই ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারে ব্যবহার করার সময় ছবিতে বড় পরিবর্তন করা হয়। AI-এর সাহায্যে Ramirez-কে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় বসানো হয় এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী ছবি। অর্থাৎ, মূল ব্যক্তির লিঙ্গ, জাতিগত পরিচয় এবং চেহারা বদলে দেওয়া হয়।
শুধু Ramirez-এর ছবিই বদলানো হয়নি। ছবিতে থাকা আরও দুই ছাত্রছাত্রীর চেহারাতেও পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। তাঁদের মুখকে তুলনামূলকভাবে সরু দেখানো হয়। পোশাকেও Stanford-এর ব্র্যান্ডিং যোগ বা পরিবর্তন করা হয়েছিল।
নিজের ছবি বদলে যাওয়ার বিষয়টি প্রথমে এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারেন Billy Ramirez। মূল ছবি এবং পরিবর্তিত ছবি পাশাপাশি দেখার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
Ramirez জানান, প্রথমে ঘটনাটি তাঁর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছিল। পরে বিষয়টি ভালোভাবে দেখার পর তিনি হতাশ হন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, Stanford তাঁর পরিচয় কীভাবে উপস্থাপন করবে, সেই সিদ্ধান্ত তাঁর হয়ে নেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, নিজের পরিচয় বদলে দেওয়া এবং ছবিটি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাঁর বক্তব্য The Stanford Review এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিতর্ক বাড়ার পর Stanford বিষয়টি স্বীকার করে। বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ছবিতে AI ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এই ধরনের AI সম্পাদনা তাদের নিজস্ব নীতির বিরোধী।
Stanford-এর AI নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষ, অনুষ্ঠান, গবেষণা, পরিকাঠামো বা সাফল্যের ছবি তৈরি বা পরিবর্তনে AI ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় ছবি পরিবর্তন এবং AI ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ না করা—দুটিই নীতির লঙ্ঘন।
Stanford পরে ওই ব্যানার সরিয়ে নেয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। ভবিষ্যতে প্রচারমূলক উপকরণ প্রকাশের আগে আরও কঠোর পর্যালোচনার ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে।
এই ঘটনা ফের সামনে আনল বিজ্ঞাপনে generative AI ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে বাস্তব মানুষের ছবি বদলে তাঁদের পরিচয় পরিবর্তন করা হলে সম্মতি, স্বচ্ছতা এবং সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।