Iran mocks Trump with Telugu movie clip
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন শুধু কূটনীতির মঞ্চে সীমাবদ্ধ নেই। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বার্তা। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জবাব দিতে সিনেমার সাহায্য নিল ইরান।
ইরানের দূতাবাস একটি তেলুগু সিনেমার অ্যাকশন দৃশ্য পোস্ট করেছে। সেই ভিডিও ব্যবহার করেই ট্রাম্পের ইরানকে ধ্বংস করার হুমকিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর জিম্বাবোয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তাদের X অ্যাকাউন্টে ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওটি তেলুগু অভিনেতা নন্দমুরি বালকৃষ্ণ অভিনীত ২০২৩ সালের সিনেমা ‘Bhagavanth Kesari’ থেকে নেওয়া।
দৃশ্যটিতে বালকৃষ্ণের চরিত্রকে একদল সশস্ত্র মানুষের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। চারদিকে অস্ত্র, গুলি এবং আক্রমণের পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর চরিত্র প্রতিরোধ করে।
এই দৃশ্যের সঙ্গে ইরানি দূতাবাস একটি ব্যঙ্গাত্মক বার্তাও দেয়। তাদের বক্তব্যের সারকথা ছিল, ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করার কথা বলছেন। কিন্তু তিনি জানেন, ইরান নিরস্ত্র নয়।
এরপরই সিনেমাকে ঘিরে কটাক্ষ করা হয়। দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন নাকি হলিউডের বদলে সম্প্রতি বলিউড দেখছে।
ইরানের পোস্ট ঘিরে সবচেয়ে মজার বিষয়টি এখানেই।
দূতাবাস যে ভিডিওটি ব্যবহার করেছে, সেটি কোনও বলিউড সিনেমার নয়। এটি তেলুগু ভাষার সিনেমা ‘Bhagavanth Kesari’-র দৃশ্য। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নন্দমুরি বালকৃষ্ণ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনিল রবিপুড়ি।
ভিডিওতে বালকৃষ্ণের চরিত্রকে একাধিক সশস্ত্র ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, চরিত্রটি আত্মরক্ষার পাশাপাশি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এই দৃশ্যকেই ইরান নিজেদের বার্তার সঙ্গে মিলিয়েছে।
ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ভারতীয় আঞ্চলিক সিনেমার একটি দৃশ্য আচমকাই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্কের অংশ হয়ে যায়।
ইরানি দূতাবাসের এই পোস্টের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে নিয়ে তাঁর সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ইসলামিক রিপাবলিককে দ্রুত ধ্বংস করা হবে—এই দুই বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এই বক্তব্যের পরই ইরানের তরফে সিনেমার দৃশ্য ব্যবহার করে পাল্টা বার্তা দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, কূটনৈতিক ভাষার বদলে এবার জনপ্রিয় সংস্কৃতির সাহায্যে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ইরানের একটি সরকারি কূটনৈতিক অ্যাকাউন্ট।
তবে এই সময়েই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে আসে। ট্রাম্পের কড়া বক্তব্যের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগও হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলার পাশাপাশি নিউইয়র্কে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের কথাও প্রকাশ্যে আসে।
ফলে একদিকে চলছে কড়া রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা। অন্যদিকে চলছে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা।
ইরানের এই সিনেমা পোস্ট সেই বৃহত্তর মার্কিন-ইরান উত্তেজনারই একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়। আর ভুল করে হলেও ‘Bollywood’ শব্দ ব্যবহারের কারণে ভারতীয় সিনেমার প্রসঙ্গটিও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।