BJP vs Congress social media
ভারতের রাজনীতিতে সোশাল মিডিয়ার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। সভা-মিছিলের পাশাপাশি এখন মোবাইলের পর্দাতেও চলছে প্রচার। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক যোগাযোগের বড় মাধ্যম।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপি ও কংগ্রেস দু’দলই ডিজিটাল প্রচারে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং জেন-জি ভোটারদের কাছে পৌঁছনো এখন বড় লক্ষ্য। দুই দলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ফলোয়ার সংখ্যার তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিজেপি সোশাল মিডিয়ায় নতুন ধরনের কনটেন্টে জোর দিচ্ছে। ছোট ভিডিও, রিলস এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছতে চাইছে দল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিজেপির জাতীয় সোশাল মিডিয়া কর্মশালায় এই কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের সোশাল মিডিয়া দায়িত্বপ্রাপ্তরাও বৈঠকে ছিলেন।
রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের ডিজিটাল প্রচারের পালটা বয়ান তৈরির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পুরনো ধরনের রাজনৈতিক পোস্টের পাশাপাশি আরও দ্রুত এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।
কংগ্রেসও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিকে ঘিরে এই প্রচার আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে কংগ্রেসের প্রায় ১.৫৪ কোটি ফলোয়ার রয়েছে। বিজেপির ফলোয়ার প্রায় ৯৯.২ লক্ষ। ইউটিউবেও কংগ্রেসের ফলোয়ার সংখ্যা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কংগ্রেসের প্রায় ৭৯.৩ লক্ষ ফলোয়ারের বিপরীতে বিজেপির প্রায় ৬৪.২ লক্ষ।
তবে ফলোয়ার সংখ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাব এক বিষয় নয়। কনটেন্ট কতজন দেখছেন, কতবার শেয়ার হচ্ছে এবং কতটা আলোচনায় আসছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ফেসবুক এবং এক্স-এ বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফেসবুকে বিজেপির প্রায় ১.৬ কোটি ফলোয়ার রয়েছে। কংগ্রেসের ফলোয়ার সংখ্যা সেখানে প্রায় ৬৭ লক্ষ।
এক্স-এ বিজেপির প্রায় ২.৩০ কোটি ফলোয়ার রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১.১৫ কোটি। চারটি প্ল্যাটফর্মের পরিসংখ্যান তাই এক ধরনের মিশ্র ছবি দেখাচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে কংগ্রেস এগিয়ে থাকা ফলোয়ার সংখ্যা জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। অন্যদিকে ফেসবুক এবং এক্স-এ বিজেপির সংখ্যা বেশি।
তবে আগামী দিনে ডিজিটাল রাজনীতির আসল লড়াই শুধু ফলোয়ারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভিউ, এনগেজমেন্ট, শেয়ার এবং রাজনৈতিক বার্তার দ্রুত বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তরুণ ভোটারদের কাছে কোন দলের বার্তা কতটা পৌঁছয়, সেটিও নজরে থাকবে।