Jamui minor harassment case
বিহারের জামুইয়ে কিশোরী হেনস্তার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ পুলিশের। এই মামলার মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পায়ে গুলি লাগার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিহারের এডিজি ল অ্যান্ড অর্ডার সুহিনা অনুপম জানিয়েছেন, নন্দন যাদবকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একটি দল গিয়েছিল। সেই সময় অভিযুক্ত পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে বলে পুলিশের দাবি। তখনই গুলি চালানো হয়। গুলিটি অভিযুক্তের পায়ে লাগে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। একই মামলায় আর এক অভিযুক্ত হরেরাম যাদবকে ধরতে গিয়েও পুলিশকে গুলি চালাতে হয় বলে জানানো হয়েছে। দু’জনকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর। জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায় কোচিং থেকে ফেরার পথে দুই নাবালক পড়ুয়াকে একদল যুবক আটকে দেয় বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে এক কিশোরীও ছিল।
ঘটনার একটি ভিডিও পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে দুই পড়ুয়াকে ঘিরে থাকতে দেখা যায়। কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগও ওঠে। তার সঙ্গী কিশোরকেও মারধর করা হয় বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরেই পুলিশ তদন্তে নামে। সাত থেকে আটজনকে ঘটনায় জড়িত বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। মামলায় পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT-ও গঠন করা হয়।
এই ঘটনায় শুধু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেই নয়, ভিডিও ছড়ানো নিয়েও পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত গুরুতর বিষয়।
ইতিমধ্যেই একাধিক সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ১২০টি প্রোফাইলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব এবং হরেরাম যাদব পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াই ঠিক করবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়।