Trump-Xi Meeting
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে নজর পড়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে এই বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য, rare earths, প্রযুক্তি এবং ইরানের মতো একাধিক বিষয় আলোচনায় থাকতে পারে।
এই বৈঠক ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমেরিকা যদি চিনের কাছ থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আদায় করতে পারে, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব বদলাতে পারে। আবার বৈঠক ব্যর্থ হলে চিনের মোকাবিলায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
আমেরিকা ও চিনের আলোচনায় বাণিজ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ওয়াশিংটন চিনের বাজারে মার্কিন পণ্যের আরও বেশি সুযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য চায়। অন্যদিকে বেজিং চাইছে শুল্কের চাপ কমুক এবং চিনা রফতানিকারীদের জন্য আরও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হোক।
Rare earths বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজও আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। এই খনিজগুলির প্রক্রিয়াকরণে চিনের বড় ভূমিকা রয়েছে। রফতানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বেজিং অতীতে এই খাতকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করেছে।
আমেরিকা তাই চিনের কাছ থেকে আরও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন চিনের বাইরে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করছে। এই জায়গাতেই ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত নিজস্ব critical minerals-এর ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে supply chain diversification-এর অংশ হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে চিন যদি আমেরিকাকে নির্ভরযোগ্য খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, তাহলে বিকল্প সরবরাহকারীর প্রয়োজনের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। এটি ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্বের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মতামত নিবন্ধটির।
চিন ও আমেরিকার প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখনও তীব্র। বিশেষ করে advanced semiconductor এবং artificial intelligence নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে দুই দেশ প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করার পথও খুঁজছে। AI নিয়ে আলোচনাও সেই বৃহত্তর সংলাপের অংশ। উন্নত চিপ, AI প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত।
ইরানও এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমেরিকা ইরানের উপর আর্থিক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চিন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার।
ফলে ওয়াশিংটন যদি তেহরানের ক্ষেত্রে বেজিংয়ের সহযোগিতা পায়, তাহলে চিন এমন একটি বিষয়ে আমেরিকার কাছে কার্যকর অংশীদার হয়ে উঠতে পারে, যেখানে ভারতেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে।
ভারতের জন্য ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি, যোগাযোগ এবং চাবাহার বন্দর গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মার্কিন-চিন সমঝোতার প্রভাব এই ক্ষেত্রেও ভারতের উপর পড়তে পারে।
Trump যদি চিনের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু সুবিধা আদায় করতে পারেন, তাহলে ওয়াশিংটনের কাছে কিছু ক্ষেত্রে ভারতের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন কমতে পারে। তবে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না।
ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা, বাজার, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং Indo-Pacific অঞ্চলে ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট ভারতীয় সক্ষমতার মূল্য নির্ভর করতে পারে আমেরিকা একই ফল অন্য কোনও দেশের কাছ থেকে পেতে পারছে কি না তার উপর।
অন্যদিকে, Trump–Xi আলোচনা থেকে যদি সীমিত ফল আসে, তাহলে বর্তমান মার্কিন-চিন প্রতিযোগিতা ও আংশিক সহযোগিতার কাঠামোই বজায় থাকতে পারে। এতে প্রযুক্তি, উৎপাদন, প্রতিরক্ষা এবং supply-chain diversification-এ ভারতের জন্য সুযোগ অব্যাহত থাকতে পারে।
আর যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে চিন আমেরিকার কাছে আরও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের গুরুত্ব বাড়তে পারে। তবে লেখকের মতে, তার অর্থ এই নয় যে ওয়াশিংটন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের প্রতি আরও নমনীয় হবে। বরং Trump প্রশাসন ভারতের কাছ থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা বা ছাড় চাইতে পারে।
তাই ভারতের জন্য মূল প্রশ্ন শুধু Trump ও Xi কোনও চুক্তিতে পৌঁছন কি না, তা নয়। বরং এই বৈঠকের ফল আমেরিকার পরবর্তী কৌশলে ভারতের প্রয়োজনীয়তাকে কীভাবে বদলায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।