• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
90-Foot Hanuman Statue Texas

‘জিতলেই মূর্তি সরিয়ে দেব’, নির্বাচনের আগে আমেরিকার টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

টেক্সাসের সুগার ল্যান্ডে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ইউটিউবার জেসি হিউজ মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার মন্তব্য করার পর হিন্দু সংগঠন ও প্রাক্তন মার্কিন সেনাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ধর্ম, অভিবাসন এবং ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

‘জিতলেই মূর্তি সরিয়ে দেব’, নির্বাচনের আগে আমেরিকার টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

90-Foot Hanuman Statue Texas

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 22, 2026 11:50 am
  • Update:September 22, 2026 11:50 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

আমেরিকার টেক্সাসে ৯০ ফুটের হনুমান মূর্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিতর্কে উঠে এসেছে ধর্ম, অভিবাসন এবং ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ।

হিউস্টনের কাছে সুগার ল্যান্ডে শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দির চত্বরে রয়েছে এই বিশাল ব্রোঞ্জের হনুমান মূর্তি। নাম ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিয়ন’। ২০২৪ সালের অগস্টে মূর্তিটির প্রতিষ্ঠা হয়। মূর্তিটি আমেরিকার অন্যতম উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত।

‘জিতলেই মূর্তি সরিয়ে দেব’, বিতর্কিত পোস্ট

সম্প্রতি রক্ষণশীল ইউটিউবার জেসি হিউজ সমাজমাধ্যম X-এ হনুমান মূর্তির ছবি পোস্ট করেন। সঙ্গে তিনি লেখেন, “যখন আমরা জিতব, তখন এটি ভেঙে ফেলব।” তবে তিনি ‘জিতব’ বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর হিন্দু সংগঠন এবং একাধিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য রুচির বক্সি এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন।

বক্সি নিজেকে আমেরিকান-হিন্দু হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থলকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ধ্বংস করার কথা বলা আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

হিন্দু সংগঠন ও প্রাক্তন সেনাকর্মীদের প্রতিবাদ

রুচির বক্সির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে Coalition of Hindus of North America বা CoHNA। টেক্সাসের প্রাক্তন মার্কিন সেনাকর্মী এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার কার্ল হুইলসও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মূর্তিটি যে জায়গায় রয়েছে, সেটি শ্রী অষ্টলক্ষ্মী মন্দিরের ব্যক্তিগত জমির অংশ। ফলে মূর্তি অপসারণের দাবি ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধিকার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই বিতর্ক অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কিছু খ্রিস্টান রক্ষণশীল মহলের মধ্যে মূর্তিটি নিয়ে আপত্তি ছিল। তাঁদের একটি অংশ মূর্তিটিকে ‘অখ্রিস্টান’ বলে বর্ণনা করেছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতি-প্রধান রাজ্য। একই সঙ্গে সেখানে পাঁচ লক্ষেরও বেশি ভারতীয়-মার্কিন নাগরিক বসবাস করেন। ফলে ধর্মীয় পরিচয় এবং ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্ক নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যও একটি আলোচিত বিষয়। সম্প্রতি রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একটি ছবি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেই পোস্টের সমালোচনা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কর্নিন এবং কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও।

হনুমান মূর্তি নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতি, ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়ের অবস্থান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনা।

তবে জেসি হিউজের পোস্টের ভিত্তিতে কোনও সরকারি সিদ্ধান্তে মূর্তিটি অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বিতর্কটি বর্তমানে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে চলছে।

আরও খবর