• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
DUSU Elections 2026

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন: টিকিট বিতর্কে চাপে NSUI, কংগ্রেসের অন্দরে উঠছে প্রশ্ন

DUSU নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রীয় পদের একটিতেও জিততে পারেনি NSUI। ABVP তিনটি পদ জিতেছে। প্রাক্তন NSUI সদস্য দীপাংশু শোকিন নির্দল প্রার্থী হিসেবে সহ-সভাপতি হয়েছেন। টিকিট বণ্টন ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন: টিকিট বিতর্কে চাপে NSUI, কংগ্রেসের অন্দরে উঠছে প্রশ্ন

DUSU Elections 2026

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 22, 2026 10:47 am
  • Update:September 22, 2026 10:47 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বা DUSU নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর চাপ বেড়েছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন NSUI-এর উপর। এবারের নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রীয় পদের একটিতেও জিততে পারেনি NSUI। অন্যদিকে, ABVP তিনটি পদ দখল করেছে। প্রাক্তন NSUI সদস্য দীপাংশু শোকিন নির্দল প্রার্থী হিসেবে সহ-সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন।

শোকিন NSUI-এর টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে সংগঠনের সরকারি প্যানেলে রাখা হয়নি। এরপর তিনি নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৩০,৬১৫ ভোট পেয়ে তিনি সহ-সভাপতি হন। NSUI-এর সরকারি প্রার্থী বীর চতরথ পান মাত্র ৪,৩১৩ ভোট।

টিকিট বণ্টন ঘিরেই শুরু হয় বিরোধ

নির্বাচনের আগে দীপাংশু শোকিনকে প্রথমে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে NSUI সূত্রের দাবি। তবে শোকিন সহ-সভাপতি পদে লড়তে আগ্রহী ছিলেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত তিনি সভাপতি পদে দাঁড়াতে রাজি হননি। এরপর সংগঠনের নেতৃত্ব তাঁকে প্যানেল থেকে বাদ দেয়। NSUI-এর তরফে বিষয়টিকে শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর সহ-সভাপতি পদে বীর চতরথকে প্রার্থী করা হয়। তিনি কংগ্রেস নেতা মনীশ চতরথের ছেলে। এই প্রার্থী বাছাই নিয়েও সংগঠনের ভিতরে প্রশ্ন ওঠে।

অন্যদিকে, যৌথ সম্পাদক পদে প্রার্থী বাছাই নিয়েও তৈরি হয় সমস্যা। বিশ্বেশ যাদবকে প্রথমে এই পদের জন্য বিবেচনা করা হলেও পরে তাঁর জায়গায় গোপাল চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়। বিশ্বেশ যাদব পরে নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়েন।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ফলেই স্পষ্ট বিভাজন

DUSU নির্বাচনের ফলাফলে NSUI-এর অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সহ-সভাপতি পদে দীপাংশু শোকিন ৩০,৬১৫ ভোট পান। ABVP-র ইশু মৌর্য পান ১৬,৯১০ ভোট। NSUI-এর বীর চতরথ পান ৪,৩১৩ ভোট।

যৌথ সম্পাদক পদেও NSUI সমস্যায় পড়ে। ABVP-র লক্ষ্ম্য রাজ সিং ১৬,৬১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিদ্রোহী প্রার্থী বিশ্বেশ যাদব ১৫,৭৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। NSUI-এর গোপাল চৌধুরী পান ১৫,২০৬ ভোট।

অন্যদিকে, সভাপতি পদে ABVP-র যশ দাবাস ২৪,৫৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। NSUI-এর বিজয় শঙ্কর মীনা পান ২২,৫২৩ ভোট। সচিব পদে ABVP-র রিয়া ছাবড়ি ২১,৬৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

কংগ্রেসে কণহাইয়া কুমারকে ঘিরে প্রশ্ন

ফল প্রকাশের পর NSUI-এর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে।  কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেখানে নির্বাচনে টিকিট বণ্টন এবং প্রচার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদন।

NSUI-এর দায়িত্বে থাকা কণহাইয়া কুমারের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কণহাইয়া ২০২৩ সালের জুলাই থেকে NSUI-এর দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন।

নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়ার পর দীপাংশু শোকিনও কণহাইয়া কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। IANS-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাঠের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টিকিট বণ্টন ঘিরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করেছে।

তবে কণহাইয়া কুমারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে শোকিনকে টিকিট না দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, শোকিনকে সভাপতি পদে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সহ-সভাপতি পদে লড়তে চেয়েছিলেন।

ফলে DUSU নির্বাচনের ফল এখন শুধু ছাত্র রাজনীতির ফলাফল হিসেবে নয়, NSUI-এর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং প্রার্থী বাছাই নিয়েও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও খবর