Trump Russia sanctions bill
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর উপর আরও চাপ বাড়াল আমেরিকা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আইনের ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর বড় অঙ্কের শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প। ভারত এবং চিনও সেই তালিকায় পড়তে পারে।
আইনটির সরকারি নাম Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026। মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাশ করেছিল। তার আগে সেনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়। এরপর শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ট্রাম্প আইনে সই করেন।
নতুন আইনের মূল লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিকে চাপে ফেলা। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য মস্কোর আয়ের উৎস কমাতে চায় ওয়াশিংটন।
আইনে রাশিয়ার সরকারি আধিকারিক, ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উপরও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহণে এই জাহাজগুলির ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
ভারত এবং চিন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা। ফলে নতুন আইনের আওতায় দুই দেশই সম্ভাব্য ভাবে পড়তে পারে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। আইন সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসেনি। বরং আইনটি ট্রাম্পকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিয়েছে।
আইনের আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা দেশগুলিকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
ফলে ভারতের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ট্রাম্প প্রশাসন এই ক্ষমতা বাস্তবে ব্যবহার করবে কি না। আর করলেও কত শতাংশ শুল্ক বসবে এবং কোন কোন পণ্যে তা কার্যকর হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন সিদ্ধান্তের আগে থেকেই ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটি বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ চালিয়ে যাবে। বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সেই উৎসও বদলাতে পারে।
অন্যদিকে, নতুন মার্কিন আইনের প্রভাব ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের উপর পড়তে পারে। কারণ আমেরিকা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বদলাতে পারে। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে শুল্কের হার, পণ্যের তালিকা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচির উপর।
অর্থাৎ, আপাতত ১০০ শতাংশ শুল্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারতের উপর সেই শুল্ক ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারত, চিন এবং আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।