MNS workers Raj Thackeray influencer
মহারাষ্ট্রে একটি সোশ্যাল মিডিয়া রিল ঘিরে বিতর্ক আরও বড় আকার নিল। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা বা MNS কর্মীদের বিরুদ্ধে এক ইনফ্লুয়েন্সারকে হেনস্থা করার অভিযোগ (MNS workers Raj Thackeray influencer) উঠেছে। অভিযোগ, রাজ ঠাকরেকে নিয়ে তৈরি একটি রিলের জেরে মহেশ মোতে নামে ওই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে আটক করা হয়।
এর পর তাঁকে রাজ ঠাকরের ছবির সামনে মাথা নত করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর মুখে কালো কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি মাথায় চটি রেখে তাঁকে ওঠবস করানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
মহেশ মোতে প্রায় ১৫ দিন আগে একটি ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছিলেন। MNS-এর অভিযোগ, সেই ভিডিওতে দলের প্রধান রাজ ঠাকরেকে নিয়ে আপত্তিকর এবং অশালীন মন্তব্য করা হয়েছিল।
MNS-এর হাদপসর বিধানসভা এলাকার উপবিভাগীয় সভাপতি শুভম জাগদালে ঘটনার বিষয়ে একটি ভিডিওতে বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, মহেশ মোতে কেরলে ছিলেন। পরে তিনি পুনেতে ফিরে এসেছেন বলে জানতে পারেন MNS কর্মীরা।
এর পর পুনের কাত্রজ এলাকায় একটি পার্ক থেকে তাঁকে আটক করে MNS-এর জনসংযোগ দফতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, MNS দফতরে মহেশ মোতেকে রাজ ঠাকরের ছবির সামনে শুয়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। তাঁর মুখে কালো কালি মাখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর পাশাপাশি মাথায় চটি রেখে তাঁকে ওঠবস করানো হয়। পরে তাঁকে দিয়ে একটি ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও রেকর্ড করানো হয়।
ওই ভিডিওতে মহেশ মোতেকে কাঁদতে দেখা যায়। হাত জোড় করে তিনি রাজ ঠাকরে এবং MNS কর্মীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
তিনি বলেন, রাজ ঠাকরেকে নিয়ে ভুল কথা বলেছিলেন তিনি। MNS-এর আরও কয়েকজন পদাধিকারী সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেন। ওই রিলের জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন এবং আর যাতে তাঁকে হেনস্থা না করা হয়, সেই আবেদন জানান।
MNS নেতা শুভম জাগদালে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্যে এটিকে দলের ‘MNS Style’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজ ঠাকরেকে নিয়ে কেউ এ ধরনের মন্তব্য করলে দল একইভাবে জবাব দেবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই ইনফ্লুয়েন্সার রাজ ঠাকরেকে নিয়ে অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে দলের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তবে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে কোনও মামলা দায়ের বা অভিযুক্ত MNS কর্মীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে কোনও ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, MNS-এর পক্ষ থেকে বিষয়টিকে দলের প্রধানকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রিল, রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও—তিনটি বিষয় নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।