Trump Greenland deal
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকা ও ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে নতুন মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ পাবে। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে চুক্তির পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, এই সমঝোতা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে খর্ব করবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরির কাজ দ্রুত শুরু হবে। গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত Pituffik Space Base মার্কিন মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে আরও তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে নতুন চুক্তিতে ঠিক কতগুলি ঘাঁটি তৈরি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় আমেরিকার ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতির অধিকার রয়েছে। ২০০৪ সালে সেই ব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নতুন চুক্তি সেই অধিকারকে কতটা সম্প্রসারিত করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম যুক্তি হল আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা।
রাশিয়া এবং চিন যাতে সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির পর আমেরিকার অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি তৈরি বা সামরিক উপস্থিতি স্থাপন করতে পারবে না। সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার প্রতিপক্ষ দেশগুলিকে গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি তৈরি থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।
আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলতে থাকায় ভূরাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব বাড়ছে। সমুদ্রপথ, খনিজ সম্পদ এবং উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকেও গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’-এর বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডেনমার্ক অবশ্য জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব খর্ব হবে না।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও জানিয়েছেন, সমঝোতাটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
বিশেষ করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রকৃত পরিমাণ এবং বিদেশনীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কোনও আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা।
এরপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সংসদীয় প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি থেকে সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এই পরিবর্তন তাই আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে। চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, বাস্তবে আমেরিকার ক্ষমতা কতটা বাড়ছে।