IIT Bombay student Sahil Wakode
IIT Bombay-এর ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুকে (IIT Bombay student Sahil Wakode) ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাহিলের মা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলেকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল। সেই কারণেই এই মৃত্যু বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।
সাহিলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছে। অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাহিল IIT Bombay-এর Energy Science and Engineering বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শুক্রবার একটি পরীক্ষার সময় তাঁর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
IIT Bombay-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সাহিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ChatGPT-তে আপলোড করে উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি পরীক্ষার পর তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষক এবং বিভাগের প্রধান।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, সাহিলকে বিষয়টি নিয়ে কাউন্সেলিং করা হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল, এই ঘটনা তাঁর শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। IIT Bombay আরও জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু করা হয়নি।
এরপর সাহিল হস্টেলে ফিরে যান। পরে তাঁর সহপাঠীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। সন্ধ্যায় হস্টেলের ঘরে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
সাহিলের মা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করা হয়েছিল। তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
সাহিলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে কয়েকজনের নাম রয়েছে। প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত সব দিক খতিয়ে দেখেই এগোবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে IIT Bombay তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, পরীক্ষার ঘটনার পর সাহিলের সঙ্গে শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান কথা বলেছিলেন। তাঁকে তাঁর পড়াশোনা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও disciplinary action নেওয়া হয়নি।
ফলে পরিবারের অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাহিলের মৃত্যুর পর IIT Bombay ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের একাংশ প্রতিবাদে নামে। তাঁরা ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।
৪০০-র বেশি পড়ুয়া প্রতিবাদে অংশ নেন। তাঁদের একাংশের দাবি, পরীক্ষার ঘটনার পর সাহিলকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে IIT Bombay এই দাবি সমর্থন করেনি এবং জানিয়েছে, কোনও disciplinary action শুরু হয়নি।
ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সাহিলের মৃত্যু IIT Bombay-এর Powai ক্যাম্পাসে সাত মাসের মধ্যে তৃতীয় এমন ঘটনা। এর ফলে ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।