• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Ajit Agarkar exit

রোহিতকে ঘিরে টানাপোড়েন, লক্ষ্মণের সঙ্গে মতপার্থক্য! আগরকরের বিদায়ের নেপথ্যে কী?

রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত, ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে ক্রিকেটীয় নীতি নিয়ে মতপার্থক্য এবং বিসিসিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মিটিংয়ে অনুপস্থিতি—এই একাধিক কারণ অজিত আগরকরের সম্ভাব্য বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তাঁর চুক্তির মেয়াদ ৪ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।

রোহিতকে ঘিরে টানাপোড়েন, লক্ষ্মণের সঙ্গে মতপার্থক্য! আগরকরের বিদায়ের নেপথ্যে কী?

Ajit Agarkar exit

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 19, 2026 8:52 pm
  • Update:September 19, 2026 8:52 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ভারতীয় ক্রিকেটে ফের বড়সড় প্রশাসনিক জল্পনা। বিসিসিআইয়ের বর্তমান চিফ সিলেক্টর অজিত আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

তবে আগরকরের সম্ভাব্য বিদায়ের পিছনে শুধুমাত্র একটি কারণ নেই। রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে ক্রিকেটীয় নীতি নিয়ে দূরত্ব—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে একটি PTI রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল চাপ

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের সিরিজের আগে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি। নির্বাচক কমিটি, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বিসিসিআইয়ের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্তার মধ্যে আলোচনার পর রোহিতকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝাকে রোহিতের সঙ্গে সিদ্ধান্তটি নিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছিল। রোহিত এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না বলে সূত্রের দাবি।

এরপর রোহিতের অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হলে বিসিসিআই একটি বিবৃতি দিয়ে তাঁর অবসর নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা খারিজ করে। এই বিবৃতি আগরকরের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

আগরকের অবস্থান ছিল, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় যদি যশস্বী জয়সওয়ালকে জায়গা দিতে হয়, তাঁকে পর্যাপ্ত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে রোহিতের পক্ষে যুক্তি ছিল, তিনি এখনও নিয়মিত কিছু ওয়ানডেতে রান করছেন।

রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচক কমিটির হাতে কতটা থাকবে, সেটিও এই পর্বে বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে।

ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে নীতি নিয়ে মতপার্থক্য

অজিত আগরকর এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের সতীর্থ ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় নীতি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ করে চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের ব্যবস্থাপনা এবং ভারতীয় ‘এ’ দলের সূচি নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতভেদ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।

ভারতীয় ‘এ’ দলের একাধিক ম্যাচের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং সিনিয়র ভারতীয় দলের সিরিজের সময়সূচি একসঙ্গে পড়েছে। এই সূচি নিয়ে আগরকর অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

এশিয়ান গেমসেও প্রথম দলের ক্রিকেটারদের পাঠানো নিয়ে আগরকরের আপত্তি ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি ছিল, এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে প্রথম সারির দল খেলানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চোট পাওয়া কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। ফলে ক্রিকেট অপারেশন, সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং নির্বাচক কমিটির মধ্যে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমারেখা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

রিভিউ মিটিংয়ে অনুপস্থিতিই কি ‘শেষ ধাক্কা’?

ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিসিসিআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মিটিংয়ে আগরকর উপস্থিত ছিলেন না। আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, তিনি শহরের বাইরে থাকায় বৈঠকে সরাসরি বা অনলাইনে যোগ দিতে পারেননি। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া তখন তাঁর অনুপস্থিতির ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন।

তবে নতুন PTI রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বোর্ডের একটি অংশ এই অনুপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখেছিল। বিশেষ করে ওই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাঁর উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল বলে মনে করা হয়েছিল।

আগরকর অবশ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী ছিলেন বলে আগের রিপোর্টে জানা গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিসিসিআই নতুন মুখের দিকে তাকাচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

বর্তমানে আগরকরের চুক্তির মেয়াদ ৪ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রাক্তন ভারতীয় উইকেটকিপার পার্থিব পটেলের নামও উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বিসিসিআই এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

অর্থাৎ, রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ, ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিতি—এই একাধিক ঘটনাই আগরকরের সম্ভাব্য বিদায়ের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে।

আরও খবর