Saudi Aramco crude supply to India
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের জেরে তেল পরিবহণ কার্যত বড় ধাক্কা খেয়েছে। এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সৌদি আরবের East-West Oil Pipeline-এর সমস্যা। এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদির তেল Red Sea উপকূলে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর সেটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে রিয়াধ।
এর মধ্যেই ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরবের সরকারি তেল সংস্থা Saudi Aramco। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় রিফাইনারদের কাছে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন তেলের ঘাটতি নয়, বরং বিকল্প তেলের বাড়তি দাম এবং পরিবহণ খরচ।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। যুদ্ধের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপক ভাবে কমেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করেছে বলে জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের East-West Pipeline গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল। প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদন এলাকা থেকে পশ্চিমে Red Sea-র Yanbu বন্দরে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যায়। ফলে হরমুজ এড়িয়ে তেল রফতানির সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু সেপ্টেম্বরের হামলার পর সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে পাইপলাইন বন্ধ করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করে। ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির উপরও। Economic Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, Saudi Aramco ভারতীয় রিফাইনারদের কাছে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রেখেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতীয় বাজারে সঙ্গে সঙ্গে তেলের ঘাটতি তৈরি হবে। ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে সৌদি সরবরাহ কমলে Iraq, UAE এবং অন্যান্য উৎস থেকে বিকল্প তেল সংগ্রহ করা সম্ভব।
সমস্যা তৈরি হবে খরচে। বিকল্প তেলের দাম বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে tanker freight এবং insurance cost-ও বেড়েছে। ফলে একই পরিমাণ তেল কিনতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ দিতে হতে পারে।
আরও একটি পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু Gulf crude Oman-এর Sohar বন্দরের কাছে ship-to-ship transfer-এর মাধ্যমে সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ এবং তুলনামূলক ব্যয়বহুল।
সৌদি আরব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ crude oil supplier। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতের মোট crude import-এর প্রায় ৭-৮ শতাংশ সৌদি আরব থেকে এসেছে বলে Kpler-এর তথ্য উদ্ধৃত করে Indian Express জানিয়েছে।
তাই Saudi Aramco-র সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় যত বাড়বে, ভারতীয় রিফাইনারদের বিকল্প উৎসের উপর নির্ভরতা তত বাড়বে। এর ফলে crude procurement cost বাড়তে পারে।
তবে আপাতত ভারতের জন্য সরাসরি supply crisis তৈরি হয়েছে এমন তথ্য নেই। Financial Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত diversified sourcing এবং existing inventories-এর সাহায্যে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সামলানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্ববাজারেও পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর Brent crude প্রায় ১০৪.৩৩ ডলারে নেমেছে। সৌদি আরব অতিরিক্ত loading এবং বিকল্প রুট ব্যবহার করে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে East-West Pipeline দ্রুত চালু করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ এখনই ভারতের সামনে তেলের ঘাটতির চেয়ে বড় ঝুঁকি হল দাম বৃদ্ধি, freight cost এবং দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ অনিশ্চয়তা। যুদ্ধ ও সমুদ্রপথের পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তার উপরই আগামী দিনের তেল বাজার অনেকটাই নির্ভর করবে।