• ২ কার্তিক ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
F-35A combat loss

F-35A-র প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি? ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় বড় চমক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের খরচ ১ অগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে CBO। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে একটি F-35A, ২৪টি MQ-9 ড্রোন, দুটি KC-135 ট্যাঙ্কার এবং একটি THAAD রাডার। F-35A-র নাম থাকায় এটিকে এই যুদ্ধবিমানের প্রথম সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিমানটি কীভাবে হারানো হয়েছিল, তা নিয়ে প্রকাশ্য মার্কিন তথ্য এখনও সম্পূর্ণ নয়।

F-35A-র প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি? ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় বড় চমক

F-35A combat loss

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 16, 2026 5:17 pm
  • Update:September 16, 2026 5:17 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ইরানের বিরুদ্ধে চলতি সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সামনে এল। নতুন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস বা CBO রিপোর্টে একাধিক সামরিক সরঞ্জাম হারানোর তথ্য রয়েছে। তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক F-35A যুদ্ধবিমানও।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের জন্য আমেরিকার খরচ ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই হিসাব ২০২৬ সালের ১ অগস্ট পর্যন্ত পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও বিমান হারানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় F-35A

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে F-35A Lightning II-এর নাম। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

CBO-র যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি F-35A-র ক্ষতির কথা রয়েছে।
ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক OSINTDefender এই তথ্যকে F-35-এর প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

তবে F-35A-টি ঠিক কীভাবে হারানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য মার্কিন সরকারি ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে শত্রুর হামলায় ধ্বংস হওয়া বিমান বলা হচ্ছে না।

আগের CRS রিপোর্টেও একটি F-35A ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানের উপর অভিযান চলাকালীন স্থল থেকে আসা আগুনে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

২৪টি MQ-9 Reaper-সহ একাধিক বিমান হারিয়েছে আমেরিকা

ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে ২৪টি MQ-9 Reaper ড্রোন। এগুলি মার্কিন সামরিক নজরদারি ও আক্রমণ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে চারটি F-15E Strike Eagle। একটি A-10 Thunderbolt II এবং একটি E-3 Sentry-র নামও রয়েছে।

দুটি MC-130J এবং একটি HH-60W হেলিকপ্টারের ক্ষতির কথাও রিপোর্টে রয়েছে।
একটি MQ-4C Triton-এর নামও তালিকায় রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী KC-135 Stratotanker-ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। CBO-র নতুন তালিকায় দুটি KC-135-এর ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি একটি THAAD AN/TPY-2 রাডার হারানোর তথ্যও সামনে এসেছে।
THAAD ব্যবস্থা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যুদ্ধের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার

শুধু সামরিক সরঞ্জাম হারানো নয়, অভিযান চালাতেও বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। CBO-র হিসাবে ১ অগস্ট পর্যন্ত খরচ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের খরচ সবচেয়ে বড় অংশগুলির একটি। বিমান চালানোর অতিরিক্ত খরচ এবং জ্বালানির খরচও উল্লেখযোগ্য।

CBO জানিয়েছে, যুদ্ধে হারানো সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করতেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে হারানো সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার বলে হিসাব করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে খরচ আরও বাড়তে পারে। হিংসার মাত্রা বেশি থাকলে মাসে কয়েক বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব শুধু মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথে বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।

আরও খবর