Saudi Arabia Israel intelligence Houthis
ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত ঘিরে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরব একদিকে হুথিদের হামলার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অবস্থান (Saudi Arabia Israel intelligence Houthis) নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়ার পথেও এগোচ্ছে রিয়াদ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা CENTCOM-এর মাধ্যমে সৌদি আর ইজরায়েলের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সৌদি আরব এবং ইজরায়েলের মধ্যে এখনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে হুথি মোকাবিলায় এই ধরনের নিরাপত্তা যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের দিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও হুমকি তৈরি হয়েছে।
এই জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের তেল রফতানি এবং সমুদ্রপথের বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি শহর এবং জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাল্টা সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনীও হুথি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
এর ফলে রিয়াদের সামনে সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক সম্প্রতি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় সদস্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে সম্মিলিত নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ইয়েমেনের মাটিতে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাতে রাজি নয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অবস্থান হল, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষায় তারা সহায়তা করতে পারে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করা আলাদা বিষয়। এই অবস্থান নিয়ে ইসলামাবাদ আগেও কিছুটা সতর্ক বার্তা দিয়েছে।
তবে পাকিস্তান সৌদির পাশে থাকার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে। ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই ইজরায়েলের সঙ্গে সৌদির পরোক্ষ নিরাপত্তা যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে।
Jerusalem Post-এর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে Economic Times জানিয়েছে, CENTCOM-এর মাধ্যমে সৌদি আরব ইজরায়েলের কাছে হুথিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে। লক্ষ্য হুথিদের সামরিক মোতায়েন, অবস্থান এবং সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া।
সৌদি আরব এখনও ইজরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। তাই এই যোগাযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরব একইসঙ্গে অন্য দেশগুলির কাছ থেকেও সাহায্য চাইছে। ব্রিটেনের কাছে বাব-এল-মান্দেব এবং সৌদির তেল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ হুথি হামলার জেরে সৌদি আরব এখন একাধিক দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধে না নামার অবস্থানে থাকায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও নজর রয়েছে।