Karnataka minister slippers remark
কৃষকদের সেচের জলের দাবি ঘিরে কর্নাটকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্যামেরার সামনে বিজেপির এক বিধায়ককে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মন্ত্রী এস এস মল্লিকার্জুনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই বিধায়ককে ‘চটি দিয়ে মারার’ জন্য গ্রামবাসীদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত ভদ্রা জলাধার থেকে সেচের জল ছাড়ার দাবি ঘিরে। হরিহর এলাকার একদল কৃষক স্থানীয় মন্ত্রী মল্লিকার্জুনের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এলাকায় পানীয় জল এবং গবাদি পশুর জন্যও পর্যাপ্ত জল নেই। সেচের জলের সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁরা মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
কৃষকরা মন্ত্রীকে জানান, হরিহরের বিজেপি বিধায়ক বি পি হরিশের পরামর্শেই তাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষকদের বক্তব্য শুনে মল্লিকার্জুন বিজেপি বিধায়ক বি পি হরিশকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এরপর গ্রামবাসীদের উদ্দেশে তিনি হরিশকে ‘চটি দিয়ে মারতে’ বলেন।
এখানেই শেষ নয়। কৃষকরা বিধায়ককে ‘আন্না’ বা বড় ভাই বলে সম্বোধন করায় মন্ত্রী তাঁদের সেইভাবে সম্বোধন না করার কথাও বলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিও সামনে আসার পর মন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।
মন্ত্রী মল্লিকার্জুনের মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হরিহরের বিজেপি বিধায়ক বি পি হরিশ। তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের সমস্যা শোনার পরিবর্তে মন্ত্রী তাঁকেই লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন।
হরিশের বক্তব্য, কৃষকদের সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা না করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানুষই এর জবাব দেবে।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কর্নাটক বিজেপির সভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র। তিনি মল্লিকার্জুনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বিজয়েন্দ্র অভিযোগ করেন, দাভানাগেরে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বি পি হরিশের বিরুদ্ধে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর বাবা-মাকেও অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু একজন বিধায়ককে অপমান করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের প্রতিও অসম্মান।
ক্ষমতার জোরে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হলে আগামী দিনে মানুষ তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সাধারণ মানুষের জলসংকটের অভিযোগ থেকে। কৃষকদের দাবি ছিল ভদ্রা জলাধার থেকে পর্যাপ্ত জল ছাড়ার। কিন্তু সেই দাবি নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময়ই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর এখন মূল প্রশ্ন, জনসমক্ষে একজন মন্ত্রীর এমন ভাষা ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে কৃষকদের মূল জলসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই কর্নাটকের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।